কয়েক সপ্তাহ ফুরফুরে মেজাজ দাম কমায় দুশ্চিন্তা কৃষকের

1

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শঙ্খ নদীর দুই কূলে প্রতি মৌসুমে উৎপাদিত হয় শত শত কোটি টাকার শীতকালীন সবজি। নদীর দুই কূলের দোহাজারী পৌরসভা, ধোপাছড়ি, পুরানগড়, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, খাগরিয়াসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে চাষাবাদ হয় শীতকালীন মূলা, বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাধাকপিসহ হরেক রকমের সবজি।
শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে প্রতি মৌসুমে কৃষকরা প্রথমেই বাজারে তোলেন মূলা। গত ১ মাস ধরে এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা বিপুল পরিমাণ মূলা বাজারে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতে শত শত কৃষক খাঁচায় মূলা নিয়ে শঙ্খ নদীপথে বাজারে আসেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মূলার খাঁচায় পূর্ণ হয়ে যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজি বাজার রেলওয়ে স্টেশন মাঠ, যা রাশিয়ার ফিল্ড নামে পরিচিত। প্রতি মৌসুমে কৃষকরা আগাম মূলা বিক্রি করে ভালো দাম পান। বিগত ১ মাস ধরে কৃষকরা প্রতি ভার মূলা (আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ কেজি) সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। বেশ কয়েক সপ্তাহ ভালো দামে মূলা বিক্রি করতে পেরে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বিগত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ মুলার দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানালেন কৃষকরা। গতকাল রবিবার ভোরে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মূলার খাঁচায় ভরে উঠেছে পুরো মাঠ। ধবধবে সাদা মূলা যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এ সময় শঙ্খ চরের নবীন কৃষক মোহাম্মদ মারুফের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করে মুলার দাম নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ভালো মানের এক ভার মূলার দাম ছিল ৪ হাজার টাকার উপরে। অথচ জমি তৈরি, চারা রোপণ, পরিচর্যা, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, মূলা তুলে ধুয়ে বাজারে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রতি ভার মূলায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। এভাবে মূলার দাম কমে যাওয়ায় আগাম মূলা চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এতে শত শত কৃষক হতাশায় ভুগছেন। গত মৌসুমেও মূলার দাম কমে যাওয়ায় শত শত কানি জমির মূলা তুলে ফেলে দিয়েছিলেন কৃষকরা।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেছেন, শঙ্খ নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হওয়ার আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষাবাদ শুরু করেন। সব কৃষকই একই সাথে শীতকালীন সবজি চাষ করায়, একই সাথে বাজারে তোলার প্রতিযোগিতা দেয়ায় সবজির দাম কমে যায়। চলতি মৌসুমেও প্রায় সব কৃষক একই সাথে আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে অন্যতম মূলার চাষাবাদ করেছেন এবং বাজারেও আনছেন একই সময়ে। ফলে মূলার দাম পড়ে গেছে। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাচাই করে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনা দেয়া হবে।