চারুকলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

61

পূর্বদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম নগরীর বাদশা মিয়া সড়কে অবস্থিত চারুকলা ইনস্টিটিউট—যা একসময় সরকারি চারুকলা কলেজ হিসেবে পরিচিত ছিল—শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠান শুধুই একটি শিক্ষাকেন্দ্র নয়, এটি এক উর্বর ভূমি; যেখানে যুগের পর যুগ ধরে শিল্পচর্চা, সৃজনশীলতা এবং প্রতিবাদী শিল্পমানসের বিকাশ ঘটেছে। এখানকার ছাত্র-শিক্ষকেরা দেশ-বিদেশে চারুকলার প্রতিনিধিত্ব করে গৌরব অর্জন করেছেন।
তবু দুঃখের বিষয়, আজ এই প্রতিষ্ঠানের আকাশে ঘন কালো মেঘ জমেছে। নানামুখী সংকট ও অনাগ্রহের ছায়া পড়ছে প্রাতিষ্ঠানিক চারুকলার এই ঐতিহ্যবাহী পরিসরে। কোনো কোনো মহল এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করতে চাইছে—যা গভীর উদ্বেগজনক।
নগরবাসীরা মনে করে, এই প্রতিষ্ঠান কারো একক মালিকানার বিষয় নয়। এটি শিল্পী রশিদ চৌধুরীর স্বপ্ন, এবং তৎকালীন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মেধা, শ্রম ও অর্থায়নে গড়ে ওঠা একটি সম্পদ। সময়ের পরিক্রমায় এটি সরকারি হয়েছে এবং পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির যে অনন্য ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা—তা কি কেবল একটি ইনস্টিটিউটের পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত?
আজ প্রয়োজন এর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও রূপান্তর। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অবকাঠামো ও মানবসম্পদের দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই পূর্ণতা লাভ করেছে। এখন সময় এসেছে এটিকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার। দেশে যেমন কারিগরি, চিকিৎসা, কৃষি বা প্রাণিসম্পদ নিয়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তেমনি চারুকলা ও ললিতকলা বিষয়েও একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এটি শুধু শিল্পীদের দাবি নয়, এটি নাগরিক সমাজ, সংস্কৃতিকর্মী, ছাত্র-শিক্ষক ও সকল সচেতন মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। চারুকলার মাধ্যমে একটি জাতির সৌন্দর্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং মানবিকতা গড়ে ওঠে। সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করাই প্রজন্মের কাছে ঐতিহাসিক দায়িত্ব।
চট্টগ্রামের শিল্প-সংস্কৃতির গর্ব এই প্রতিষ্ঠানটি যেন অন্ধকারে না ঢাকা পড়ে, বরং আরও দীপ্তিময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে—সেই জন্য সকলেরই আন্তরিক মনোযোগ ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।