মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় বাবা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭ টায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদীঘি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। নিহতরা হলেন গোলাম সরোয়ার (৪০) ও তাঁর মেয়ে মুসকান (৩), প্রতিবেশী সাগর (৩০)। তাঁরা স্বপরিবারে ঢাকার উত্তরা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন। নিহতরা রাজধানী ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। এই ঘটনায় আহতরা হলেন-গোলাম সরোয়ারের স্ত্রী উম্মে সালমা (৩২), ছেলে আহমেদ ইমতিয়াজ (৯) ও প্রাইভেটকারচালক গিয়াস উদ্দিন (৩০)। আহত গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদীঘি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ঢাকার উত্তরা থেকে আসা প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা ও মেয়ে। আহত সাগর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
খবর পেয়ে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস, জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করেন। একই সময় আহতদের প্রাথমিকভাবে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত গোলাম সরোয়ারের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, ‘আমি কক্সবাজার যেতে চাইনি। আল্লাহ আমায় কেন নিয়ে যায়নি। আমার মুসকান কই, আমার মুসকান নেই। আমার স্বামী ও তিন বছরের মেয়েটা আর বেঁচে নেই। আমার ছেলেটাও আহত এখন আমি কি নিয়ে বাঁচবো। দুর্ঘটনায় আমার সাজানো সংসার তছনছ করে দিল’।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজু সিংহ বলেন, ‘আহতদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর। আহত উম্মে সালমা, আহমেদ ইমতিয়াজ ও গিয়াস উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে’।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা-মেয়ে মারা যান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা গেছেন। মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। প্রাইভেটকারচালক চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি’।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক বলেন, ‘মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাগর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে প্রাইভেটকার চালক গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক’।






