সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করুন

1

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির আর জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কগুলোর পরিণতি আমরা কমবেশি জানি। তবে চট্টগ্রাম নগরীতে এবার অপেক্ষাকৃত কম জলাবদ্ধতা হলেও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারসমূহে সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে নগরীর অন্যতম প্রধান পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাইয়ের খানাখন্দকে ভরে উঠা সড়কসমূহের করুণদশা তুলে ধরে এক প্রতিবেদন করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি চাল ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই এলাকার বেহাল সড়কগুলো এখন কেবল স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগের কারণ নয়, বরং দেশের বাণিজ্যব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় সাত-আট মাস ধরে মধ্যম চাক্তাই, রাজাখালী, মকবুল সওদাগর ও সোবহান সওদাগর সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো খানাখন্দ ও কাদায় ভরা। চাক্তাইয়ের মত বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজারের প্রায় সড়কের এমনদশা দেখতে পাওয়া যাবে। মোহরা, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর, ১নং পাহাড়তলী, হালিশহর, পতেঙ্গা ও বন্দর এলাকায় মূল সড়কসহ অভ্যন্তরীন সড়কের বড় একটি অংশ খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পুরকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবারের বর্ষায় নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চসিকের তথ্য মতে, নগরের মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন মোড়, মুরাদপুর থেকে চকবাজার অলি খাঁ মসজিদ মোড়, কাপাসগোলা সড়ক, হান্নান শাহ সড়ক, জাকির হোসেন সড়ক, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, আরাকান সড়ক, এম এম আলী সড়ক, সিডিএ অ্যাভিনিউ, অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়ক খানাখন্দে ভরা। একই অবস্থা শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কের কাজীর দেউড়ি থেকে জামালখান, ফকির মোহাম্মদ সড়ক, কবির আহমদ, সওদাগর সড়ক, আকমল আলী সড়ক, প্রাণহরি দাশ সড়ক, শুলকবহর আবদুল হামিদ সড়ক, নূর আহমদ সড়ক, জুবিলী সড়ক, আমবাগান সড়কের। বেহাল অবস্থা প্রবর্তক মোড় থেকে ২ নম্বর গেট মোড়, সিডিএ অ্যাভিনিউ, কেবি আমান আলী সড়ক, ইশান মহাজন সড়ক, পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডের নিমতলা থেকে বড়পোল পর্যন্ত অংশে সড়কের। দক্ষিণ কাট্টলীর প্রাণহরি দাশ সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির পর আর ঢালাই করা হয়নি। এসব সড়কে চলাচলরত চালকরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ছোট-বড় খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে। যার কারণে গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে। প্রায়ই বিকল হচ্ছে গাড়ি। এছাড়া ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র জানায়, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহের ভারী বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি একত্রিত হওয়ায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠে যায়। মাত্র ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও জোয়ারের কারণে পরিস্থিতি অনেকটা অস্বস্তিকর হয়। এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গণমাধ্যমকে মেয়র জানান, আমরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে সক্ষম হয়েছি। চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো পানি জমছে না। তবু কিছু কিছু এলাকায় কাজ বাকি রয়েছে। ¯øুইসগেটগুলো নির্মাণ সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা কমে আসবে। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে ওয়াসা আইন মানছে না বলে দাবি করেন সিটি মেয়র। এভাবে চলতে থাকলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। চসিকের প্রধান প্রকৌশলী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু খানাখন্দ ঠিক করা হচ্ছে। বর্ষা শেষ হলে পুরোদমে এসব সড়ক সংস্কার কাজ করা যাবে। অফরদিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ-আছদগঞ্জ দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। কিন্তু ভাঙা ও কাদাভরা সড়কের কারণে পণ্য পরিবহন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য ওঠানো–নামানোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে, চালকেরা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন এবং অনেক যানবাহনই বাজারে ঢুকতে চাইছে না। এ কারণে ব্যবসায়ীরা যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তেমনই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে। এ সমস্যার প্রভাব কেবল ব্যবসায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শ্রমিকেরা কাদাভরা রাস্তায় পণ্য ওঠানো-নামানো করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন এবং তাঁদের ভোগান্তিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন নগরবাসী। চাক্তাই এলাকাসহ নগরীর সড়কগুলো মেরামতে চসিককে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা জানি, চসিকের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে। বিশেষ করে, কেন্দ্র থেকে আশানুরূপ বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ আছে চসিকের। এরপরও প্রয়োজনীয় মেরামত চসিককে করতে হবে। এক্ষেত্রে মেয়র একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামকে জনদুর্ভোগ মুক্ত করবেন-এমনটি প্রত্যাশা নগরবাসীর।